Voice of Eastern India

DJ মামলায় আগামী ৮ তারিখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা


ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কলকাতা : DJ মামলায় আগামী ৮ তারিখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা হবে। সকাল ১০টায় বিধাননগর ACJM-এর এজলাসে দিতে হবে কণ্ঠস্বরের নমুনা। বিশেষজ্ঞ ও CID আধিকারিকদের উপস্থিতিতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে অভিষেককে, নির্দেশ বিধাননগর আদালতের। গতকালই কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার কথা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রক্ষাকবচ চেয়ে অভিষেক আবেদন জানালেও, তা নিয়ে কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। 

ডিজে-মন্তব্য মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩০ জুন মঙ্গলবার বিকেল চারটের মধ্যে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল বিধাননগর আদালত। সেই নির্দেশের ওপর কোনও স্থগিতাদেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। এদিকে সেই ডেডলাইনও পার হয়ে গেল। এবার জানা গিয়েছে, DJ মামলায় আগামী ৮ তারিখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা হবে। ডিজে-মন্তব্য মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি বেড়েছে আগেই। বিধাননগর আদালতের নির্দেশের ওপর কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। কোনও রক্ষাকবচ দেননি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে, মঙ্গলবার বিধাননগর আদালতের বেঁধে দেওয়া ডেডলাইনও পার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু হাজির হননি অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। 

টাকিতে চলল বুলডোজার, ইছামতীর গা ঘেঁষে তৈরি তৃণমূল নেতার বেআইনি হোটেল ভাঙার কাজ শুরু

ভোটপ্রচারে বারবার DJ বাজানোর কথা বলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ভাষণ, হুমকি এবং শান্তি বিঘ্নিত করার মতো অভিযোগে মামলা রুজু হয়। FIR খারিজের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে ২১ মে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, ‘একজন সর্বভারতীয় দলের সাধারণ সম্পাদক যদি এই ধরনের মন্তব্য করেন, তাহলে চিন্তা করে দেখুন, ভোটের ফল অন্যরকম হলে কী হত? তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে তৃণমূল সাংসদকে। একজন সাংসদ হয়ে কীভাবে তিনি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) এই ধরনের মন্তব্য করলেন? এরপরই কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, আদালতের নির্দেশ ছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে না পুলিশ। ৩০ জুলাই বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে রক্ষাকবচ।’ 

এরই মধ্যে মূল মামলায় বিধাননগর আদালত নির্দেশ দেয় ৩০ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৪টের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর গলার স্বরের নমুনা দিতে হবে। সেই নির্দেশও চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে যান তৃণমূল সাংসদ। ৩০ জুন মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের আদালতে সেই মামলার শুনানি ছিল। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, তদন্তকারী সংস্থা কীভাবে তাদের তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করবে সেটা তাদের ব্যাপার। আদালত কেন হস্তক্ষেপ করবে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সওয়াল করেন, তাঁর মক্কেল তো স্বীকার করেছেন যে কণ্ঠস্বর তাঁর। বিচারপতি বলেন, কেউ যদি খুন করে থানায় গিয়ে স্বীকার করে, তাহলে কি পুলিশ আইন মেনে তদন্ত করবে না? যদি কণ্ঠস্বর তাঁরই হয় তাহলে পুলিশের কাছে গিয়ে আবার নমুনা দিতে অসুবিধা কোথায়? 

বিচারপতি আরও বলেন, এই মামলা ইতিমধ্যে অন্য এজলাসে বিচারাধীন রয়েছে। সেখানে গিয়ে যা বলার বলুন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সওয়ালে বলেন, আমার মক্কেলকে আদালত এই শর্তে রক্ষাকবচ দিয়েছিল যে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন। এখন কণ্ঠস্বর না দিলে তো পুলিশ অসহযোগিতার অভিযোগ করবে। যেহেতু FIR খারিজের মামলা বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর এজলাসে বিচারাধীন রয়েছে, সেই কারণ দেখিয়ে এরপরই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.