অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা : ২১ জনকে নিয়ে আসা হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। তারমধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এমনই খবর পাওয়া যাচ্ছে হাসপাতাল সূত্রে। তারাতলায় বিপর্যয়ের ঘটনা সামনে আসার পর ভুক্তভোগীদের পরিবারের একের পর এক সদস্য হাসপাতালে ভিড় করতে শুরু করেছেন। সেরকমই এক শ্রমিকের আত্মীয় এসেছেন হাসপাতালে।
তিনি বললেন, “আমার ভাই আটকে আছে। নাম খালেক সর্দার। বাসন্তী থানা এলাকার বাসিন্দা। ওখানে ঢালাইয়ের কাজ করছিল। ৩টে থেকে খোঁজ পাচ্ছি না। ফোনে কথা হয়েছে। ৩টের সময় কথা হয়েছিল। বলল, ভাল আছি। একটাই কথা বলে ছেড়ে দিল। ফোন কেটে দিয়েছে। জানিয়েছিল। বলল, ভাল আছি। কেউ চিন্তাভাবনা করো না। এই বলে ছেড়ে দিল। এখনও কোনও খোঁজ পাইনি।”
অপর একজনের আত্মীয় বলেন, “কথা হয়নি। খবরে দেখার পর এলাম। আসার পরে দেখছি, বলা হচ্ছে উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে এসেছে। হাসপাতালে খোঁজ পাচ্ছি না। কোনও খোঁজ পাচ্ছি না। আমার বাড়ি খড়দা। আমার জামাইবাবু আছেন এবং তার বাইরেও আরও তিনজন আছেন। কাল রাতে শেষ জামাইবাবুর সঙ্গে কথা হয়েছিল। কাজের বিষয়ে কথা হয়েছিল। আমার নাম ইদ্রিস আলি।”
আজ দুপুর ১২টার পর তারাতলায় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে নির্মীয়মাণ গোডাউন। নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ভেঙে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। অনেককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছে। তাঁদের উদ্ধার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে এই তৎপরতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ” প্রথমেই ধন্যবাদ জানাব আমাদের সিভিল ডিফেন্স, কলকাতা পুলিশ এবং ফায়ার ব্রিগেডকে। তাঁরা যদি স্থানীয় মানুষদের নিয়ে দ্রুত উদ্ধার না করতেন, তাহলে এই মৃত্যুর সংখ্যাটা অনেক লম্বা হত। কলকাতা তথা রাজ্যের ক্ষেত্রে একটা অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা হত। আমরা ধন্যবাদ জানাব আমাদের এই জোনের আর্মির যিনি দায়িত্বে আছেন এনডিআরএফের, আমার সঙ্গে ২টো ৩০ মিনিট নাগাদ মুখ্যসচিবের যখন কথা হয়, তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে দেরি না করে আমরা সেনাকে কল করব। প্রসেস কমপ্লিট হওয়ার আগেই তারা সেনা এবং এনডিআরএফকে পাঠিয়ে দেন। এক ঘণ্টার মধ্যে…তারা ৩টে ১৫-২০ মিনিট থেকে পুরো উদ্ধার কাজে হাত লাগান। এখন অবধি মোট ২১ জনকে উদ্ধার করা গেছে। ১৮ জন অসুস্থ অবস্থায় অর্থাৎ জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। কিছুজনের চিকিৎসা এসএসকেএমে হচ্ছে। ওখানে স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এবং স্বাস্থ্য সচিবের নেতৃত্বে টিম কাজ করছে। সিএমওএইচ দক্ষিণ ২৪ পরগনার নেতৃত্বে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স প্রতিনিয়ত ওখানে কাজ করছে এবং গ্রিন চ্যানেল করে কলকাতা পুলিশ তাঁদের পৌঁছে দিচ্ছে। অর্থাৎ, একসঙ্গে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যে কাজ দরকার, আমরা সেটাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।”
কমিশনে গেলেন ঋতব্রত, বলে দিলেন, “আমরাই আসল তৃণমূল”
