হংসরাজ সিংহ, পুরুলিয়া: সাত সকালে দোতলা বাড়িতে বিধ্বংসী আগুন, আর তার জেরেই তীব্র চাঞ্চল্য। শনিবার সকালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়ায় আদ্রা থানার (Purulia News) অন্তর্গত সুভাষ নগর এলাকায়। স্থানীয় একটি দোতলা বাড়ি থেকে আচমকাই গলগল করে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন প্রতিবেশীরা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাড়িতে।
ঘটনার খবর পেয়েই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেখানে পৌঁছে যায় আদ্রা থানার পুলিশ এবং দমকলের একটি ইঞ্জিন। স্থানীয় বাসিন্দা ও দমকল কর্মীদের যৌথ উদ্যোগে চলে আগুন নেভানোর প্রচেষ্টা। দীর্ঘক্ষণের লড়াইয়ের পর অবশেষে কোনওরকমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে বাড়ির ভেতরের বহু আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল? এটি শর্ট সার্কিট থেকে নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই যৌথ তদন্ত শুরু করেছে আদ্রা থানার পুলিশ ও দমকল বিভাগের আধিকারিকেরা।
জেলার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা শহর ও শহরতলির আশেপাশে বেশ কিছু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসে। ভোটপর্বের সময় সন্তোষপুর রেল স্টেশনের পাশে অবস্থিত বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। ঘটনার জেরে বজবজ-শিয়ালদা শাখায় রেল চলাচল পর্যন্ত ব্যাহত হয়েছিল। রেললাইনের ধারে অবস্থিত ১৬ বিঘা বস্তিতে লাগে এই আগুন। প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টি ঝুপড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দমকলের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ তুলছেন এলাকার মানুষরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রথমে তাঁরা দুইটি বাড়ি পুড়তে দেখেন। কিন্তু দমকল দেরিতে আসায় একের পর এক বাড়ি পুড়তে শুরু করে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ঠিক তার পরের মাসেই তিলজলায় চামড়ার কারখানায় আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে কারখানার দুই কর্মীর মৃত্যু হয়। চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যালে ভর্তি হতে হয় আরও তিনজনকে।
তবে পুরুলিয়ার আদ্রার ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই। স্থানীয় সূত্রে খবর, যে সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে, তখন সৌভাগ্যক্রমে বাড়ির ভেতরে পরিবারের কোনও সদস্য ছিলেন না। চিকিৎসার কারণে তাঁরা সকলেই বর্তমানে বাইরে রয়েছেন। ফাঁকা বাড়ি থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা বেরোতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাই তড়িঘড়ি আদ্রা থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে খবর দেন।
তাণ্ডব চালানো হয়েছিল থানায়, এবার পাকড়াও জাহাঙ্গির-জায়া
