Voice of Eastern India

Amphan Relief Scam : ২৫০ কোটি টাকার স্ক্যাম ! কীভাবে হয়েছিল আমফান দুর্নীতি ? সবটা ফাঁস করলেন বিজেপি নেতা ববি


কলকাতা : রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে দলটি। মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বিধায়ক ও সাংসদরা। আর এই সবের মাঝে আরও বিপাকে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। একের পর এক মামলা তাঁর বিরুদ্ধে। গত কয়েকদিনে কখনও কেন্দ্রীয় এজেন্সি, আবার কখনও রাজ্যের এজেন্সির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর এবার তাঁরই লোকসভা কেন্দ্রে তাঁর বিরুদ্ধেই কোটি কোটি টাকার ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগে FIR দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। কিন্তু কীভাবে হয়েছিল সেই দুর্নীতি? কী দাবি করেছেন অভিযোগকারী বিজেপি নেতা? 

কীভাবে হয়েছিল দুর্নীতি ?

কোথাও একই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে একাধিকবার টাকা ঢুকেছে। আবার কোথাও একই বাড়ি দেখিয়ে নেওয়া হয়েছে একাধিকবার আর্থিক সাহায্য। লঙ্ঘন করা হয়েছে ‘একটি বাড়ি, একজনের অনুদান’ নীতিকেও। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকায় আমফানের ত্রাণে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যে FIR দায়ের হয়েছে। অভিযোগপত্রে নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। 

২০২০ সালের ২০ মে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফানের দাপটে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সুন্দরবন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভেঙে পড়ে অগণিত বাড়ি। দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করে সরকার। দুটি ভাগে ভাগ করা হয় উপভোক্তাদের। যাদের বাড়ি সমপূর্ণ ভেঙে যায়, তাদের ক্যাটিগরি A-তে রেখে এককালীন ২০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অপরদিকে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের B ক্যাটিগরিতে রেখে এককালীন ৫ হাজার টাকা সাহায্য ঘোষণা করে সরকার। ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ বা ‘DBT’-র মাধ্যমে ত্রাণের সেই অর্থ পৌঁছে যায় সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। 

আরও পড়ুন – চড়াম চড়াম ঢাক থেকে DJ বাজানো, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে হুমকি-হুঁশিয়ারির তালিকায় কারা ?

অভিযোগ, সেইসময়ের উপভোক্তাদের তথ্য খতিয়ে দেখে, একাধিক বেনিয়ম সামনে এসেছে। যেমন উপভোক্তার তালিকায় একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার রয়েছে। এক ফোন নম্বর এবং এক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একাধিকবার টাকা ঢুকেছে। অনেক সন্দেহজনক উপভোক্তাও রয়েছে তালিকায়। আবার একটি সমপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি দেখিয়েও একাধিকবার টাকা তোলা হয়েছে। ‘একটি বাড়ি, একটি অনুদান’ নীতি উপেক্ষা করে, একই বাড়ির ছাদের নীচে বসবাসকারী একাধিক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ত্রাণের টাকা গেছে। পুলিশের দাবি, সরকারি পোর্টালে দেখা যাচ্ছে, হাজার হাজার অনুমোদিত আবেদনের ক্ষেত্রে সুপারিশকারী হিসেবে নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। 

অভিযোগকারীর দাবি, বিষণুপুর ১ নম্বর ব্লকে ২৫ কোটি ৮০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা এবং বিষণুপুর ২ নম্বর ব্লকে ৩২ কোটি ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। অভিযোগ, শুধুমাত্র এই দুটি ব্লকেই দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র ধরলে সেই অঙ্ক গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ২৫০ কোটি টাকায়। এই ঘটনায় জামিন অযোগ্য-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.