Voice of Eastern India

তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা যোগ দিয়েছেন NCPI-তে ! এই রাজ্যেই রয়েছে দলের শিকড়? প্রতিষ্ঠাতা বাঙালিই? যা জানা গেল … | tmc rebel mps merge wit ncpi howrah sankrail registered


অর্ণব মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : রবিবার পরতে পরতে চমকের সাক্ষী থাকল দিল্লি। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ-রা মিশে গেলেন NCPI বা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়াতে। রবিবার সন্ধেয় লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বললেন, আমরা তৃণমূল সাংসদরা NCPI-র সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে NDA-র সঙ্গে কাজ করব। কিন্তু NCPI কারা? কোন দল ?

জানা যাচ্ছে,  ত্রিপুরার একটি  স্বল্প পরিচিত দল NCPI। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে তারা ভোটেও লড়ে । কিন্তু তেমন কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি তারা। অপেক্ষাকৃত ছোট রাজনৈতিক দলই আচমকা জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ রবিবার থেকে  ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সাংসদ ! 

পশ্চিমবঙ্গেও রয়েছে NCPI-র রেজিস্টার্ড অফিস

এই রাজনৈতিক নাটকের মাঝেই সামনে এসেছে NCPI-র পশ্চিমবঙ্গের রেজিস্টার্ড অফিসের তথ্য। দলটির নিবন্ধিত অফিস রয়েছে হাওড়া জেলার সাঁকরাইল এলাকায়। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘জাগো বিশ্ব’-র কার্যালয় থেকেই পরিচালিত হয় NCPI-র রেজিস্টার্ড অফিস। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে NCPI-র নাম জড়ানোর পর বিষয়টি ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষিতে গত রাতেই ওই অফিসে পৌঁছে যায় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দের প্রতিনিধি। ছোট পরিসরের এই অফিস ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। 

 

 কী এই NCPI? কোথা থেকে এল এই দল?  

২০২৩ সালে আত্মপ্রকাশ এই দলের। নির্বাচন কমিশনের নথি বলছে, NCPI বা Nationalist Citizens Party of India ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি একটি Registered Unrecognised Political Party (RUPP) । NDTV-র প্রতিবেদন অনুসারে, দলটির মূল নিবন্ধিত ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বানীপুর এলাকায় । কিন্তু এরা ভোটে লড়ে প্রথম ত্রিপুরা থেকে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দলটি মোট মাত্র ১.১৩ লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছিল।

কারা চালান NCPI?

দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছেন শিউলি কুণ্ডু। দলের সভাপতি হলেন উত্তীয় কুণ্ডু, যিনি শিউলি কুণ্ডুর স্বামী। রাজনৈতিক মহলে উত্তীয় কুণ্ডুর নাম সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে NCPI মোট সাতটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তবে চারটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি আসনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন লড়ে NCPI। কেউই জিততে পারেননি। যে দলটি মাত্র কয়েকশো ভোট পেয়েছিল, সেই NCPI এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত নাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট যত গভীর হবে, NCPI-র ভূমিকা ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।  

 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.